খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা কি বঞ্চিতই থেকে যাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা কি বঞ্চিতই থেকে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও গুম-গ্রেপ্তারের চরম দুঃসময় পার করছে, ঠিক তখন রাজপথে সাহসের সঙ্গে যারা দলের পতাকা বহন করেছেন, তাদের একজন হলেন আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তিনি বিএনপির দুর্দিনের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও গুমের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও তিনি বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতিতে অবিচল থেকেছেন, এখনও আছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে উত্তাল ছিল। কসবা-আখাউড়া উপজেলার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতি দল, জাসাসসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নজিরবিহীন কর্মসূচি হতে দেখা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কসবা-আখাউড়াবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত আশা পূরণ করতে পারেননি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কবীর আহমেদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত। বিশেষ করে ১/১১-এর পর বিএনপির ঐক্য ধরে রাখার জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া । নেতাকর্মীদের উজ্জ্বীবিত করার পাশাপাশি তাদের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন তিনি। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থাৎ বন্যা, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছ তিনি। তাদের চিকিৎসাসহ আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তিনি এলাকায় নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে সহস্রাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন। সম্প্রতি এলাকাবাসীকে নিয়ে তিনি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কবীর আহমেদ ভূঁইয়া দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করে আসছেন। বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় তাঁর মতো একজন বিশেষজ্ঞকে কাজে লাগালে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। এতে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে, সমৃদ্ধ হবে দেশ ও জাতি। এক্ষেত্রে তাঁকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বভার দেওয়া হলে সেটি দেশ ও মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া কসবা ও আখাউড়ায় একজন গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সভা-সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই তার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য।

কসবা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বারের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ‘দলের কঠিন সময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন নিবেদিতপ্রাণ নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তিনি বিএনপির তৃণমূল সংগঠনকে নতুন করে উজ্জীবিত করছেন। দলের নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবেসে বলেন, দুর্দিনের কাণ্ডারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪টি সাংগঠনিক ইউনিটে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সুসংগঠিত করে গেছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, তাঁতি দল, শ্রমিক দল, জাসাস ও মহিলা দলের ইউনিটগুলো তার নেতৃত্বে সক্রিয় ও কার্যকর হয়ে ওঠে। তার অনুপ্রেরণায় শত শত নতুন নেতাকর্মী রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিশেষ করে করোনাকালে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ান। দলীয় যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তার সক্রিয় উপস্থিতি। এত কিছুর পরেও তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাননি। এটা এলাকাবাসীদের জন্য অনেক কষ্টের কারণ হয়ে আছে। এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ’

কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপন বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের একজন অগ্রণী মুখ হিসেবে দুঃসময়ে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন নির্ভীকভাবে। এত শ্রমের বিনিময়ে দল তাকে সেইভাবে মূল্যায়ন করেননি, এটা হতাশার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাইলেই এই হতাশা কাটতে পারে।’

আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু বলেন, ‘তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং সৎ, ত্যাগী ও মানবিক রাজনৈতিক চেতনার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া, তথা দেশের মানুষের কাছে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সক্রিয় নেতৃত্বে বিএনপি কসবা-আখাউড়া অঞ্চলে আবারও শক্ত ভিত্তি ফিরে পেয়েছে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বরারবই বঞ্চিত ছিলেন। আর কতকাল তিনি এমন বঞ্চিত হয়ে থাকবেন, এটিই দলের হাই কমান্ডের কাছে প্রশ্ন?’

কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার খান বলেন, ‘বিএনপির দুঃসময়ে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া নেতাকর্মীদের পাশে থেকে মানবতার সেবা করেছেন। মামলা-হামলা, নির্যাতনের সময় তিনি জেলে থাকা কর্মীদের পরিবারকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও কভিড-১৯-এর সময় তিনি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রতি বছর হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করে থাকেন। কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, যুব উন্নয়ন এবং খেলাধুলার প্রসারে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। এসবের কোনো মূল্য তিনি পাননি। আমরা চাই, তার এই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হোক। দল আজ ক্ষমতায় আছে। দলের হাই কমান্ড চাইলে, তাকে আমরা আরও উপরে দেখতে পাব। আমরা চাই, তিনি আমাদের হয়ে সংসদে কথা বলুক। তার মন্ত্রিত্ব এখন সময়ের দাবি। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের দাবি পূরণ করবেন।’

আখাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘কবীর আহমেদ ভূঁইয়া কসবার তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি তিনি বিদেশগামী শ্রমিকদের সহায়তায় কাজ করেছেন এবং বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। সেই কাজে এখনো নিয়োজিত আছেন তিনি। তিনি মন্ত্রী হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন, তথা দেশের আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আমি আশা করি।’

কসবা পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুন মিয়া বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া জাতিসংঘের সেক্রেটারিয়েটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে দেশের আন্দোলনের তথ্য অবহিত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয় এ বিষয়ে অবগত আছে। দেশের জন্য তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না।’

আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম ভুঁইয়া বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে যে মানুষটি পাশে ছিলেন, সেই কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে আমরা এলাকার হয়ে সংসদে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কসবা-আখাউড়াবাসীর দুর্ভাগ্য সেই আশা পূরণ হয়নি। তাই এই ত্যাগী নেতাকে আগামী দিনে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন বলেন, ‘দলের চরম দুর্দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যখন নেতৃত্বশূন্য ছিল, নেতারা যখন বিদেশে, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে অবস্থান করতেন, তখন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৪টি ইউনিটকে সুসংঘটিত করে আন্দোলন এবং সংগ্রামে স্বশরীর উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে বেগবান করেন। দলের প্রতিটি নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সফল সম্মেলন করেন। সেখানে দলের চেয়ারম্যান ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু সম্মেলন শেষে কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে বঞ্চিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে সবাই আশা করেছিল কবীর আহমেদ ভূইয়া কসবা-আখাউড়া থেকে এমপি হবেন। বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যবশত এবারও কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে বঞ্চিত করা হয়। আমি দলের কাছে কবীর আহমেদ ভূইয়ার যথাযথ মূল্যায়ন চাই। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে।’

আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দীন বলেন, ‘কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে মূল্যায়ন না করলে তৃণমূল হতাশ হবে। দলের দুঃসময়ে তিনি বিএনপিকে উজ্জীবিত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এখনো পুরো জেলার বিএনপি ও সকল সহযোগী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ। দলের বিপদের সময় এত সক্রিয়ভাবে কাজ করতে কলিজা লাগে। তাকে গুম করা হয়েছিল। আর উপর নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল। যে কারণে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তাঁর হার্টের ধমনিতে দুইটি রিং পড়ানো হয়। জীবন বাজি রেখে যে নেতা মাঠে ছিলেন, তাকে বঞ্চিত করলে ভবিষ্যতে দল কোনো বিপদে পড়লে দলের জন্য ঝুঁকি নিতে কোনো নেতা বা কর্মী এগিয়ে আসবেন না। বিশেষ করে কসবা ও আখাউড়া বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কবীর আহমেদ ভূইয়াকে যেকোনো দপ্তরের মন্ত্রিত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি যোগ্য। আশা করি, দল তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ফেলিসিটেশন’ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
   
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ফেলিসিটেশন’ অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্রাঞ্চের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য “Grand Felicitation” (কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ফোকাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার মহাপরিচালক জুলফিকার হায়দার রাফি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার পরিচালক ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইম্পেরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মনির হোসেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ফোকাসের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ।
আতাউল্লা সজীব (সিনিয়র শিক্ষক, সাধারণ জ্ঞান বিভাগ)
ইলিয়াস হোসেন (সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা বিভাগ)
জাহিদ উদ্দিন (সিনিয়র শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ)
অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন ফোকাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সহকারী পরিচালক মেহেরাব হোসেন।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া কেবল একটি নিয়মতান্ত্রিক অর্জন নয়, এটি দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার এক বিরাট সুযোগ। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের ফোকাস পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। নিজেদের সাফল্যের এমন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বর্ণিল এই আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
   
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

দেশের সর্ববৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর স্থিতিশীলতা রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এমডি ওমর ফারুকের পুনর্বহাল ও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের
দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) সকাল ১০ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সচেতন ফোরাম-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এ সময় আন্দোলনকারী গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা ব্যাংকের নিরাপত্তা ও আমানত রক্ষার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তা ও সাধারণ গ্রাহকেরা ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা জানান, বিগত দিনে এস আলম গ্রুপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ভুয়া এলসি, শেল কোম্পানি ও অনিয়মিত ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের সফল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ ওমর ফারুক খানকে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যা মূলত তাকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করার একটি অপচেষ্টা। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকে ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলন শুরু করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ব্যাংকের ঐতিহ্য ও সুশাসন বজায় রাখতে গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে মূলত ৫টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়: এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল: গ্রাহকদের আস্থা ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে এমডি জনাব মোঃ ওমর ফারুক খানের ছুটি অবিলম্বে বাতিল করে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। বিতর্কিত আইন বাতিল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ বন্ধ: ব্যাংক ডাকাতদের পুনর্বাসনের জন্য সংযোজিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮/ক ধারা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর ও এস আলমের বিচার: এস আলম গ্রুপ যে প্রকৃত মালিকদের হাত থেকে অবৈধভাবে ব্যাংকটি দখল করেছিল, দ্রুত তাদের হাতে মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সাথে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অর্থ আত্মসাৎকারী এস আলমের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের শেয়ার নগদায়ন করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এএমডি কামাল উদ্দিন জসীমের বহিষ্কার: ব্যাংকের শান্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ ধ্বংস করার পেছনে লিপ্ত থাকার এবং এস আলমের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) কামাল উদ্দিন জসীমকে অবিলম্বে ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করতে হবে।চেয়ারম্যান ডঃ জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ: ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংকের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি করতে না পারার ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ডঃ জুবায়দুর রহমানের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক আমাদের আস্থার জায়গা। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এই ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। আমরা আমাদের আমানতের নিরাপত্তা চাই এবং ব্যাংকের সুশাসন ফেরাতে ওমর ফারুক খানকে আবারও এমডি হিসেবে দেখতে চাই।”

গ্রাহকেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীরা যেভাবে সংকটে পড়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অবস্থা তেমন হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার বাংলাদেশ ব্যাংককে নিতে হবে। এর আগে গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠানো হয়। আজকের মানববন্ধনে এডভোকেট মনিরুজ্জান এর সঞ্চালনায় ব্যাংকের গ্রাহক অধ্যাপক শহীদুল্লাহ, অধ্যক্ষ মোনায়েম মুন্না, প্রবীণ গ্রাহক,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: খাইরুল ইসলাম খোকন, সাবেক ব্যাংকার জনাব আবু জাহের,সাবেক অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, সাবেক ব্যাংকার বেলাল হোসেন,সালমা বেগম, ফাতেমা আক্তার, জুঁই আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এদিকে মানববন্ধন চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক এলাকার আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

কবিতা- পুরুষ পাঠ -২ রত্না মাহমুদা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
   
কবিতা- পুরুষ পাঠ -২ রত্না মাহমুদা

পুরুষের আশ্রয়, নারীর প্রশ্রয়—

নারী, তুমি ভালোবেসে দেখো,

পুরুষ তোমার যপমাল্য গলে পরবে।

নারী, তুমি মুক্তমনা হয়ে দেখো—

পুরুষ তোমার অহংকারের পালক হবে।

তুমি নারী, শুধুই পারো,

কৈফিয়তের পসরা সাজাতে,

যে কৈফিয়তে ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ে

বারবার দূর সীমানায় হয়,

তোমার শখের পুরুষের বাস।

ভালোবাসা বড় নির্মম,

নারী, তুমি বড়ই নির্দয়।

পুরুষ, পুরুষ করো—

অথচ পুরুষের মন বোঝো না!