খুঁজুন
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইপিজেড: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
ইপিজেড: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৪ (কসবা–আখাউড়া) নির্বাচনী এলাকার বিএনপি মনোনীত (২০২৬) এমপি প্রার্থী এবং ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া সম্প্রতি বেপজার কাছে কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তার লক্ষ্য স্পষ্ট—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্তবর্তী পূর্ব–বাংলাকে ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করে এক নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা।

প্রস্তাবটি এখন শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়; ভৌগোলিক সুবিধা, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, শ্রমবাজারের বিশালতা, রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক মডেলের আলোকে এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময়। ইতিমধ্যে বেপজা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে এবং দেশে–বিদেশে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
ভৌগোলিক সুবিধা: আখাউড়া সীমান্ত ঘিরে নতুন ট্রেড–গেটওয়ে
কসবার তিন লাখ পীর এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকরিডরের কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই রয়েছে আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর; আর সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা, যার রাজধানী আগরতলা মাত্র ২৫–৩০ মিনিটের পথ।

আখাউড়া–আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক নিকটবর্তীতা
ঢাকামুখী নতুন এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজ
এ সব মিলিয়ে কসবা ইপিজেডের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মানের শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ব্যতিক্রমীভাবে উপযোগী করে তুলেছে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়—“অবস্থানই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মূলধন”—আর কসবা সেই মূলধনেরই স্বর্ণভূমি।
শ্রমবাজার: ৫ লাখ কর্মসংস্থানের বাস্তব ভিত্তি
৩৫–৪০ লাখ জনসংখ্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমঘন এলাকা। এখানে ১৮–৪০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৫–১৮ লাখ।
কসবা–আখাউড়া অঞ্চলে অন্তত ২–২.৫ লাখ যুবক নতুন কর্মসংস্থানের অপেক্ষায়
ত্রিপুরা ও আসামের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকেও বহু শ্রমিক কাজ করতে আগ্রহী
ইপিজেড হলে সরাসরি ২.৫–৩ লাখ চাকরি
আনুষঙ্গিক সেবা খাতে (লজিস্টিকস, ব্যবসা, সাপ্লাই চেইন, আবাসন, পরিবহন) আরও ২–২.৫ লাখ কর্মসংস্থান
অর্থাৎ পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের জীবনে প্রত্যক্ষ পরিবর্তন আনবে এ শিল্পাঞ্চল।
সম্ভাব্য শিল্প: কোথায় সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা?
১. গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ভ্যালুচেইন
বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮৪% আসে টেক্সটাইল খাত থেকে। কসবা ইপিজেড হবে ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে নিকটবর্তী গার্মেন্টস উৎপাদন কেন্দ্র।
২. লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট
ঢাকা–চট্টগ্রাম করিডরের নিকটবর্তীতা ছোট যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য কসবাকে উপযোগী করে।
৩. ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি জোন
মোবাইল, LED পণ্য, হোম অ্যাপ্লায়েন্স—সব ধরনের অ্যাসেম্বলি প্লান্ট এখানে স্থাপন করা সম্ভব।
৪. এগ্রো–প্রসেসিং ও খাদ্যশিল্প
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধান, মাছ, সবজি ও দুধ উৎপাদনে সমৃদ্ধ। ইপিজেড–ভিত্তিক ফুড–প্রসেসিং প্লান্ট সরাসরি স্থানীয় কৃষিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করবে।
৫. লজিস্টিকস ও বর্ডার–ট্রেড হাব
আখাউড়া স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হবে ফ্রেইট–ফরওয়ার্ডিং, ওয়্যারহাউজিং, ট্রান্সশিপমেন্ট ও কোল্ড–স্টোরেজ ক্লাস্টার।
কৌশলগত গুরুত্ব: কেন কসবা ইপিজেড বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য?
১. পূর্ববাংলার প্রথম বৃহৎ বর্ডার–ইকোনমিক জোন
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমার ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ।
২. আঞ্চলিক ভারসাম্য উন্নয়ন
শিল্পায়ন এখনো ঢাকা–গাজীপুর–নারায়ণগঞ্জভিত্তিক। কসবা এই মানচিত্রে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
৩. ভারত–বাংলাদেশ বাণিজ্য নতুন মাত্রায়
ত্রিপুরা ও আসাম থেকে বছরে হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। কসবার উৎপাদন কেন্দ্র রফতানি বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে।
৪. স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স নির্ভরতা কমানো
প্রবাসনির্ভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থনীতি দেশীয় কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত পাবে।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ: কী শেখা যায়?
শেনঝেন ইকোনমিক জোন (চীন)
এক সময় ছোট শহর হলেও আজ ৪৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কেন্দ্র। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকেও কিভাবে বৈশ্বিক শিল্পশক্তি গড়ে ওঠে—শেনঝেন তার বড় উদাহরণ।
ভিয়েতনামের হো চি মিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর
FDI ২০ বছরে ২০ গুণ বেড়েছে। টেক্সটাইল–ভ্যালুচেইন বাংলাদেশকে সরাসরি অনুপ্রেরণা দেয়।
গুজরাটের মুন্দ্রা–দাহেজ মডেল (ভারত)
স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলের সমন্বয়—কসবা একই ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
মালয়েশিয়ার পেনাং ফ্রি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন
“সিলিকন ভ্যালি অফ দ্য ইস্ট”—ইলেকট্রোনিক্স উৎপাদনে কসবাও এর আদলে এগোতে পারে।
বাজার লক্ষ্য: কারা হবে কসবা ইপিজেডের প্রধান ক্রেতা?
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চল: ৪.৫–৫ কোটি মানুষের বাজার
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পাঞ্চল
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের গার্মেন্টস ও খাদ্য বাজার
গ্লোবাল সাপ্লাই–চেইনে আগ্রহী বহুজাতিক কোম্পানি
আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার নেতৃত্ব: উন্নয়নদর্শনের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ
কবীর আহমেদ ভূঁইয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি একজন উন্নয়নদর্শী উদ্যোক্তা ও অঞ্চলপ্রেমী চিন্তক।
ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বহু বছর ধরে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ–সহায়তা ও যুবউন্নয়নে তার ভূমিকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
কসবা ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইতিহাসে প্রথম মেগা ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর—যা ভবিষ্যতে পূর্ববাংলাকে “ইস্টার্ন ইকোনমিক পাওয়ারহাউস” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

নীতি–প্রস্তাব: প্রকল্প সফল করতে প্রয়োজনীয় কাঠামো
১. ১০০০–১৫০০ একর জমিতে বহুমুখী শিল্পাঞ্চল
২. ওয়ান–স্টপ সার্ভিস সেন্টার
৩. আখাউড়া স্থলবন্দর–কেন্দ্রিক লজিস্টিকস করিডর
৪. টেকসই বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ ক্লাস্টার
৫. টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স, এগ্রো–প্রসেসিং ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং—চারটি প্রধান শিল্প ক্লাস্টার
৬. দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট
৭. পরিবেশবান্ধব গ্রিন–ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ড
৮. বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর–ছাড় ও বন্ড সুবিধা
৯. কর্মীদের জন্য স্মার্ট টাউনশিপ—আবাসন, হাসপাতাল, স্কুল, বাজারসহ পূর্ণ শহর কাঠামো
কসবা ইপিজেড—পূর্ববাংলার নতুন ভবিষ্যৎ :
কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় প্রস্তাবিত ইপিজেড কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়; এটি হবে পূর্ববাংলার একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যেখানে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা, লজিস্টিকস ও সীমান্তবানিজ্য একই গতিতে সমন্বিত হবে।
আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সমগ্র পূর্বাঞ্চল নতুন শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করবে—যেখানে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ফেলিসিটেশন’ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
   
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ফেলিসিটেশন’ অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্রাঞ্চের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য “Grand Felicitation” (কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ফোকাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার মহাপরিচালক জুলফিকার হায়দার রাফি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার পরিচালক ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইম্পেরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মনির হোসেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ফোকাসের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ।
আতাউল্লা সজীব (সিনিয়র শিক্ষক, সাধারণ জ্ঞান বিভাগ)
ইলিয়াস হোসেন (সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা বিভাগ)
জাহিদ উদ্দিন (সিনিয়র শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ)
অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন ফোকাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সহকারী পরিচালক মেহেরাব হোসেন।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া কেবল একটি নিয়মতান্ত্রিক অর্জন নয়, এটি দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার এক বিরাট সুযোগ। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের ফোকাস পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। নিজেদের সাফল্যের এমন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বর্ণিল এই আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
   
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

দেশের সর্ববৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর স্থিতিশীলতা রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এমডি ওমর ফারুকের পুনর্বহাল ও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের
দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) সকাল ১০ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সচেতন ফোরাম-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এ সময় আন্দোলনকারী গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা ব্যাংকের নিরাপত্তা ও আমানত রক্ষার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তা ও সাধারণ গ্রাহকেরা ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা জানান, বিগত দিনে এস আলম গ্রুপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ভুয়া এলসি, শেল কোম্পানি ও অনিয়মিত ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের সফল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ ওমর ফারুক খানকে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যা মূলত তাকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করার একটি অপচেষ্টা। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকে ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলন শুরু করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ব্যাংকের ঐতিহ্য ও সুশাসন বজায় রাখতে গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে মূলত ৫টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়: এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল: গ্রাহকদের আস্থা ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে এমডি জনাব মোঃ ওমর ফারুক খানের ছুটি অবিলম্বে বাতিল করে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। বিতর্কিত আইন বাতিল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ বন্ধ: ব্যাংক ডাকাতদের পুনর্বাসনের জন্য সংযোজিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮/ক ধারা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর ও এস আলমের বিচার: এস আলম গ্রুপ যে প্রকৃত মালিকদের হাত থেকে অবৈধভাবে ব্যাংকটি দখল করেছিল, দ্রুত তাদের হাতে মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সাথে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অর্থ আত্মসাৎকারী এস আলমের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের শেয়ার নগদায়ন করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এএমডি কামাল উদ্দিন জসীমের বহিষ্কার: ব্যাংকের শান্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ ধ্বংস করার পেছনে লিপ্ত থাকার এবং এস আলমের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) কামাল উদ্দিন জসীমকে অবিলম্বে ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করতে হবে।চেয়ারম্যান ডঃ জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ: ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংকের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি করতে না পারার ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ডঃ জুবায়দুর রহমানের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক আমাদের আস্থার জায়গা। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এই ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। আমরা আমাদের আমানতের নিরাপত্তা চাই এবং ব্যাংকের সুশাসন ফেরাতে ওমর ফারুক খানকে আবারও এমডি হিসেবে দেখতে চাই।”

গ্রাহকেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীরা যেভাবে সংকটে পড়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অবস্থা তেমন হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার বাংলাদেশ ব্যাংককে নিতে হবে। এর আগে গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠানো হয়। আজকের মানববন্ধনে এডভোকেট মনিরুজ্জান এর সঞ্চালনায় ব্যাংকের গ্রাহক অধ্যাপক শহীদুল্লাহ, অধ্যক্ষ মোনায়েম মুন্না, প্রবীণ গ্রাহক,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: খাইরুল ইসলাম খোকন, সাবেক ব্যাংকার জনাব আবু জাহের,সাবেক অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, সাবেক ব্যাংকার বেলাল হোসেন,সালমা বেগম, ফাতেমা আক্তার, জুঁই আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এদিকে মানববন্ধন চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক এলাকার আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

কবিতা- পুরুষ পাঠ -২ রত্না মাহমুদা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
   
কবিতা- পুরুষ পাঠ -২ রত্না মাহমুদা

পুরুষের আশ্রয়, নারীর প্রশ্রয়—

নারী, তুমি ভালোবেসে দেখো,

পুরুষ তোমার যপমাল্য গলে পরবে।

নারী, তুমি মুক্তমনা হয়ে দেখো—

পুরুষ তোমার অহংকারের পালক হবে।

তুমি নারী, শুধুই পারো,

কৈফিয়তের পসরা সাজাতে,

যে কৈফিয়তে ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ে

বারবার দূর সীমানায় হয়,

তোমার শখের পুরুষের বাস।

ভালোবাসা বড় নির্মম,

নারী, তুমি বড়ই নির্দয়।

পুরুষ, পুরুষ করো—

অথচ পুরুষের মন বোঝো না!